28/03/2026
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আর্মেনিয়ার ট্যুরিস্ট ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়াটি সরাসরি ই-ভিসার মতো সহজ নয়, কারণ বাংলাদেশের জন্য আমন্ত্রণপত্র (Invitation Letter) থাকা বাধ্যতামূলক। নিচে বিস্তারিত তথ্য আলোচনা করা হলো:
১. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (Documents Checklist)
আর্মেনিয়া ভিসার জন্য আপনার সব নথিপত্র ইংরেজি ভাষায় হতে হবে (বাংলা হলে নোটারিসহ অনুবাদ করতে হবে):
পাসপোর্ট: মূল পাসপোর্ট যার মেয়াদ অন্তত ৬ মাস আছে এবং কমপক্ষে দুটি খালি পৃষ্ঠা আছে।
ছবি: ২ কপি রঙিন ছবি (৩৫ মিমি x ৪৫ মিমি), সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড, ম্যাট ফিনিশ।
আবেদনপত্র: সঠিকভাবে পূরণকৃত এবং স্বাক্ষর করা ভিসা অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম।
আমন্ত্রণপত্র (Invitation Letter): এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর্মেনিয়া থেকে কোনো অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সি বা কোনো ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই আমন্ত্রণপত্রটি নিয়ে তা সেদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MFA) থেকে অনুমোদিত হতে হবে।
ফরওয়ার্ডিং লেটার/চাকরির প্রমাণ: আপনি যদি চাকরিজীবী হন তবে এনওসি (NOC) এবং ব্যবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্সের ইংরেজি অনুবাদ ও নোটারি কপি।
থাকার প্রমাণ: কনফার্ম হোটেল বুকিং।
টিকেট বুকিং: রিটার্ন এয়ার টিকেট বুকিংয়ের কপি।
ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স: পুরো ভ্রমণকালীন সময়ের জন্য বৈধ আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বিমা।
২. ব্যাংক ফান্ড ও আর্থিক সক্ষমতা
আর্মেনিয়া যাওয়ার জন্য ব্যাংক ব্যালেন্সের নির্দিষ্ট কোনো ধরাবাঁধা অংক নেই, তবে আপনার ভ্রমণের খরচ চালানোর মতো সামর্থ্য আছে তা প্রমাণ করতে হবে।
ব্যাংক স্টেটমেন্ট: গত ৬ মাসের পার্সোনাল ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট।
ব্যালেন্স: সাধারণত জনপ্রতি অন্তত ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা ব্যালেন্স রাখা নিরাপদ বলে ধরা হয়। লেনদেন সচল থাকা জরুরি।
৩. আবেদনের পদ্ধতি (Application Process)
বাংলাদেশে আর্মেনিয়ার কোনো দূতাবাস নেই। তাই আপনাকে নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে:
ইনভাইটেশন সংগ্রহ: প্রথমে আর্মেনিয়া থেকে একজন স্পন্সর বা এজেন্সির মাধ্যমে ইনভাইটেশন লেটার সংগ্রহ করুন।
দিল্লি এম্বাসি: বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য দিল্লির আর্মেনিয়া দূতাবাস ভিসা ইস্যু করে। আপনি চাইলে নিজে দিল্লি গিয়ে জমা দিতে পারেন অথবা ঢাকার অনুমোদিত কোনো ভিসা প্রসেসিং এজেন্ট (যেমন: Sticker Visa বা VISAThing)-এর মাধ্যমে কাগজপত্র পাঠাতে পারেন।
ই-ভিসা (বিশেষ ক্ষেত্রে): আপনার যদি ইউএসএ (USA), ইউকে (UK), কানাডা বা শেনজেন (Schengen) দেশের ভ্যালিড ভিসা থাকে, তবে আপনি ই-ভিসার (e-Visa) জন্য সরাসরি অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। নতুবা স্টিকার ভিসাই একমাত্র পথ।
৪. খরচ ও সময়
ভিসা ফি: ক্যাটাগরি ভেদে সাধারণত ৫ থেকে ২০ মার্কিন ডলার (পরিবর্তনশীল)। তবে এজেন্ট সার্ভিস চার্জ আলাদা হতে পারে।
সময়: আবেদন জমা দেওয়ার পর সাধারণত ৭ থেকে ১৫ কর্ম দিবস সময় লাগে।
পরামর্শ: কোনো দালালের খপ্পরে না পড়ে অনুমোদিত কোনো বড় এজেন্সির মাধ্যমে ইনভাইটেশন এবং প্রসেসিংয়ের কাজগুলো করান।
আমি কি আপনার জন্য আর্মেনিয়ার কোনো ভালো ট্যুরিস্ট স্পট বা হোটেল সম্পর্কে তথ্য খুঁজে দেব?