14/09/2026
🔱 শিব তাণ্ডব স্তোত্র — বাংলা অর্থসহ
১.
জটাটবীগলজ্জলপ্রবাহপাবিতস্থলে
গলেऽবলম্ব্য লম্বিতাং ভুজঙ্গতুঙ্গমালিকাম্।
ডমড্ডমড্ডমড্ডমন্নিনাদবড্ডমর্বয়ং
চকার চণ্ডতাণ্ডবং তনোতু নঃ শিবঃ শিবম্॥
সহজ অর্থ:
যাঁর জটাজুট থেকে গঙ্গার পবিত্র জল প্রবাহিত হচ্ছে, যাঁর গলায় বিশাল সর্পের মালা শোভা পাচ্ছে এবং যাঁর ডমরুর তীব্র ধ্বনিতে চারদিক মুখরিত—সেই চণ্ড তাণ্ডবকারী মহাদেব আমাদের মঙ্গল করুন।
২.
জটাকটাহসম্ভ্রমভ্রমন্নিলিম্পনির্ঝরী
বিলোলবীচিবল্লরীবিরাজমানমূর্ধনি।
ধগদ্ধগদ্ধগজ্জ্বলল্ললাটপট্টপাবকে
কিশোরচন্দ্রশেখরে রতিঃ প্রতিক্ষণং মম॥
অর্থ:
যাঁর জটায় দেবগঙ্গার ঢেউ দুলছে, যাঁর ললাটে প্রজ্বলিত অগ্নি এবং শিরে কিশোর চন্দ্র শোভিত—সেই চন্দ্রশেখর শিবের প্রতি আমার প্রতি মুহূর্তে প্রেম ও ভক্তি জাগুক।
৩.
ধরাধরেন্দ্রনন্দিনীবিলাসবন্ধুবন্ধুর
স্ফুরদ্দিগন্তসন্ততিপ্রমোদমানমানসে।
কৃপাকটাক্ষধোরণীনিরুদ্ধদুর্ধরাপদি
ক্বচিদ্দিগম্বরে মনো বিনোদমেতু বস্তুনি॥
অর্থ:
পার্বতীর প্রিয়তম, যাঁর কৃপাদৃষ্টি কঠিন বিপদও দূর করতে পারে, সেই দিগম্বর মহাদেবের মধ্যে আমার মন সর্বদা আনন্দ লাভ করুক।
৪.
জটাভুজঙ্গপিঙ্গলস্ফুরৎফণামণিপ্রভা
কদম্বকুঙ্কুমদ্রবপ্রলিপ্তদিগ্বধূমুখে।
মদান্ধসিন্ধুরস্ফুরত্ত্বগুত্তরীয়মেদুরে
মনো বিনোদমদ্ভুতং বিভর্ত্তু ভূতভর্তরি॥
অর্থ:
সর্পের ফণার মণির আলোয় যাঁর চারদিক আলোকিত, যিনি জীবজগতের পালনকর্তা—সেই ভূতনাথ শিবের মধ্যে আমার মন অপূর্ব আনন্দ লাভ করুক।
৫.
সহস্রলোচনপ্রভৃত্যশেষলেখশেখর
প্রসূনধূলিধোরণী বিধূসরাঙ্ঘ্রিপীঠভূঃ।
ভুজঙ্গরাজমালয়া নিবদ্ধজাটজূটকঃ
শ্রিয়ৈ চিরায় জায়তাং চকোরবন্ধুশেখরঃ॥
অর্থ:
ইন্দ্রসহ সমস্ত দেবতা যাঁর চরণে পুষ্প অর্পণ করেন, সেই পুষ্পের ধূলিতে যাঁর চরণ পবিত্র হয় এবং সর্পরাজের মালায় যাঁর জটা আবদ্ধ—শিরে চন্দ্রধারী সেই শিব আমাদের চিরকল্যাণ করুন।
৬.
ললাটচত্বর্জ্বলদ্ধনঞ্জয়স্ফুলিঙ্গভা
নিপীতপঞ্চসায়কং নমন্নিলিম্পনায়কম্।
সুধাময়ূখলেখয়া বিরাজমানশেখরং
মহাকপালিসম্পদে শিরোজটালমস্তু নঃ॥
অর্থ:
যাঁর ললাটের অগ্নি কামদেবকে দগ্ধ করেছিল, যাঁকে দেবতারা প্রণাম করেন এবং যাঁর মস্তকে চন্দ্রকলা শোভিত—সেই মহাকপালী শিবের জটা আমাদের কল্যাণের কারণ হোক।
৭.
করালভালপট্টিকাধগদ্ধগদ্ধগজ্জ্বল
দ্ধনঞ্জয়াহুতীকৃতপ্রচণ্ডপঞ্চসায়কে।
ধরাধরেন্দ্রনন্দিনীকুচাগ্রচিত্রপত্রক
প্রকল্পনৈকশিল্পিনি ত্রিলোচনে রতির্মম॥
অর্থ:
যাঁর ভয়ঙ্কর ললাটের অগ্নি কামদেবকে দগ্ধ করেছে, যিনি পার্বতীর অঙ্গে অলংকার অঙ্কনকারী এবং যিনি ত্রিনয়ন—সেই মহাদেবের প্রতি আমার গভীর প্রেম ও ভক্তি নিবেদিত হোক।
৮.
নবীনমেঘমণ্ডলী নিরুদ্ধদুর্ধরস্ফুরৎ
কুহূনিশীথিনীতমঃ প্রবন্ধবদ্ধকন্ধরঃ।
নিলিম্পনির্ঝরীধরস্তনোতু কৃত্তিসিন্ধুরঃ
কলানিধানবন্ধুরঃ শ্রিয়ং জগদ্ধুরন্ধরঃ॥
অর্থ:
যাঁর কণ্ঠ নতুন মেঘের মতো গম্ভীর ও অন্ধকার, যিনি দেবগঙ্গার ধারক, চন্দ্রধারী এবং সমগ্র জগতের ভার বহন করেন—সেই মহাদেব আমাদের ঐশ্বর্য ও মঙ্গল দান করুন।
৯.
প্রফুল্লনীলপঙ্কজপ্রপঞ্চকালিমপ্রভা
বলম্বিকণ্ঠকন্দলীরুচিপ্রবদ্ধকন্ধরম্।
স্মরচ্ছিদং পুরচ্ছিদং ভবচ্ছিদং মখচ্ছিদং
গজচ্ছিদান্ধকচ্ছিদং তমন্তকচ্ছিদং ভজে॥
অর্থ:
আমি সেই শিবকে ভজনা করি যিনি কামদেবের বিনাশকারী, ত্রিপুরাসুরের বিনাশকারী, সংসারবন্ধন ছিন্নকারী, দক্ষযজ্ঞ ধ্বংসকারী, গজাসুর ও অন্ধকাসুরের বিনাশকারী এবং মৃত্যুরও বিনাশকারী।
১০.
অখর্বসর্বমঙ্গলাকলাকদম্বমঞ্জরী
রসপ্রবাহমাধুরী বিজৃম্ভণামধুব্রতম্।
স্মরান্তকং পুরান্তকং ভবান্তকং মখান্তকং
গজান্তকান্ধকান্তকং তমন্তকান্তকং ভজে॥
অর্থ:
যিনি সমস্ত মঙ্গল ও কলার আধার, সেই শিবকে আমি ভজনা করি—যিনি কামদেব, ত্রিপুর, সংসার, যজ্ঞ, গজাসুর, অন্ধকাসুর এবং মৃত্যুরও অন্ত ঘটিয়েছেন।
১১.
জয়ত্বদভ্রবিভ্রমভ্রমদ্ভুজঙ্গমশ্বাস
দ্বিনির্গমৎক্রমস্ফুরৎকরালভালহব্যবাট্।
ধিমিদ্ধিমিদ্ধিমিধ্বনন্মৃদঙ্গতুঙ্গমঙ্গল
ধ্বনিক্রমপ্রবর্তিতপ্রচণ্ডতাণ্ডবঃ শিবঃ॥
অর্থ:
সর্পের ফোঁসফোঁস শব্দ, ললাটের অগ্নির জ্যোতি এবং মৃদঙ্গের “ধিমি ধিমি” ধ্বনির সঙ্গে যাঁর প্রচণ্ড তাণ্ডব শুরু হয়—সেই মহাদেবের জয় হোক।
১২.
দৃষদ্বিচিত্রতল্পয়োর্ভুজঙ্গমৌক্তিকস্রজোঃ
গরিষ্ঠরত্নলোষ্ঠয়োঃ সুহৃদ্বিপক্ষপক্ষয়োঃ।
তৃণারবিন্দচক্ষুষোঃ প্রজামহীমহেন্দ্রয়োঃ
সমং প্রবর্তয়ন্মনঃ কদা সদাশিবং ভজে॥
অর্থ:
পাথর ও কোমল শয্যা, সাপ ও মুক্তোর মালা, মূল্যবান রত্ন ও মাটির ঢেলা, বন্ধু ও শত্রু—সবকিছুকে যিনি সমদৃষ্টিতে দেখেন, সেই সদাশিবকে আমি কবে পূর্ণভাবে ভজনা করতে পারব?
১৩.
কদা নিলিম্পনির্ঝরীনিকুঞ্জকোটরে বসন্
বিমুক্তদুর্মতিঃ সদা শিরঃস্থমঞ্জলিং বহন্।
বিমুক্তলোললোচনো ললামভাললগ্নকঃ
শিবেতি মন্ত্রমুচ্চরন্ কদা সুখী ভবাম্যহম্॥
অর্থ:
কবে আমি গঙ্গার তীরের কোনো নির্জন স্থানে বসে সমস্ত কু-চিন্তা ত্যাগ করে, হাতে অঞ্জলি নিয়ে, শিবের নাম জপ করতে করতে প্রকৃত সুখ লাভ করব?
১৪.
ইমং হি নিত্যমেবমুক্তমুত্তমোত্তমং স্তবং
পঠন্স্মরন্ ব্রুবন্নরো বিশুদ্ধিমেতি সন্ততম্।
হরে গুরৌ সুভক্তিমাশু যাতি নান্যথা গতিং
বিমোহনং হি দেহিনাং সুশঙ্করস্য চিন্তনম্॥
অর্থ:
যে ব্যক্তি নিয়মিত এই উত্তম স্তোত্র পাঠ, স্মরণ ও উচ্চারণ করেন, তিনি পবিত্রতা লাভ করেন এবং শিব ও গুরুর প্রতি গভীর ভক্তি অর্জন করেন। শঙ্করের চিন্তন জীবের মোহ দূর করে।