17/08/2026
শ্রীষড়গোস্বামী অষ্টকম
১
কৃষ্ণোৎকীর্তন-গান-নর্তন-পরৌ প্রেমামৃতাম্ভো-নিধী
ধীরাধীর-জন-প্রিয়ৌ প্রিয়-করৌ নির্মৎসরৌ পূজিতৌ।
শ্রীচৈতন্য-কৃপা-ভরৌ ভূবি ভূভো ভারাবহন্তারকৌ
বন্দে রূপ-সনাতনৌ রঘু-যুগৌ শ্রীজীব-গোপালকৌ॥
২
নানা-শাস্ত্র-বিচারণৈক-নিপুণৌ সদ্ধর্ম-সংস্থাপকৌ
লোকানাং হিত-কারিণৌ ত্রিভুবনে মান্যৌ শরণ্যাকারৌ।
রাধাকৃষ্ণ-পদারবিন্দ-ভজনানন্দেন মত্তালিকৌ
বন্দে রূপ-সনাতনৌ রঘু-যুগৌ শ্রীজীব-গোপালকৌ॥
৩
শ্রীগৌরাঙ্গ-গুণানুবর্ণন-বিদৌ শ্রদ্ধা-সমৃদ্ধ্যান্বিতৌ
পাপোত্তাপ-নিকৃন্তনৌ তনুভৃতাং গোবিন্দ-গানামৃতৈঃ।
আনন্দাম্বুধি-বর্ধনৈক-নিপুণৌ কৈবল্য-নিস্তাৰকৌ
বন্দে রূপ-সনাতনৌ রঘু-যুগৌ শ্রীজীব-গোপালকৌ॥
৪
ত্যক্ত্বা তূর্ণমশেষ-মণ্ডল-পতি-শ্রেণীং সদা তুচ্ছবৎ
ভূত্বা দীন-গণেশকৌ করুণয়া কৌপীন-কন্থাশ্রিতৌ।
গোপী-ভাব-রসামৃতাব্ধি-লহরী-কল্লোল-মগ্নৌ মুহুঃ
বন্দে রূপ-সনাতনৌ রঘু-যুগৌ শ্রীজীব-গোপালকৌ॥
৫
কূজাত্-কোকিল-হংস-সারস-গণাকীর্ণে ময়ূরাকুলে
নানারত্ন-নিবদ্ধ-মূল-বিটপী-শ্রীয়ুক্ত-বৃন্দাবনে।
রাধাকৃষ্ণমহর্নিশং প্রভজতৌ জীবার্থদৌ যা মুদা
বন্দে রূপ-সনাতনৌ রঘু-যুগৌ শ্রীজীব-গোপালকৌ॥
৬
সংখ্যাপূর্বক-নাম-গান-নতিভিঃ কালাবসানীকৃতৌ
নিদ্রাহার-বিহারকাদি-বিজিতৌ চাত্যন্ত-দীনৌ চ যৌ।
রাধাকৃষ্ণ-গুণস্মৃতের্মধুরিমানন্দেন সম্মোহিতৌ
বন্দে রূপ-সনাতনৌ রঘু-যুগৌ শ্রীজীব-গোপালকৌ॥
৭
রাধাকুণ্ড-তটে কলিন্দ-তনয়া-তীরে চ বংশীবটে
প্রেমোন্মাদ-বশাদশেষ-দশয়া গ্রস্তৌ প্রমত্তৌ সদা।
গায়ন্তৌ চ কদা হরির্গুণবরং ভাবাবিভূতৌ মুদা
বন্দে রূপ-সনাতনৌ রঘু-যুগৌ শ্রীজীব-গোপালকৌ॥
৮
হে রাধে ব্রজদেবিকে চ ললিতে হে নন্দসুনো কুতঃ
শ্রীগোবর্ধন-কল্পপাদপতলে কালিন্দী-বনে কুতঃ।
ঘোষন্তৌ ইতি সর্বতো ব্রজপুরে খেদৈর্মহা-বিহ্বলৌ
বন্দে রূপ-সনাতনৌ রঘু-যুগৌ শ্রীজীব-গোপালকৌ॥
✅✅✅✅✅✅❤️❤️❤️❤️❤️
শ্রীষড়গোস্বামী অষ্টকম – বাংলা ভাবানুবাদ
১ম শ্লোকের অর্থ
আমি শ্রীরূপ গোস্বামী, শ্রীসনাতন গোস্বামী, শ্রীরঘুনাথ ভট্ট গোস্বামী, শ্রীরঘুনাথ দাস গোস্বামী, শ্রীজীব গোস্বামী এবং শ্রীগোপাল ভট্ট গোস্বামীর চরণে প্রণাম জানাই। তাঁরা সর্বদা শ্রীকৃষ্ণের নামসংকীর্তন, গুণগান ও নৃত্যে নিমগ্ন থাকেন এবং প্রেমরূপ অমৃতসমুদ্রের ভাণ্ডার। তাঁরা শান্ত ও অশান্ত—সকলেরই প্রিয়, সকলের মঙ্গলকারী, হিংসামুক্ত এবং সকলের পূজ্য। তাঁরা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপাশক্তিতে পরিপূর্ণ হয়ে জগতের জীবদের ভববন্ধন থেকে উদ্ধার করেছেন।
২য় শ্লোকের অর্থ
আমি সেই ছয় গোস্বামীকে প্রণাম করি, যাঁরা নানাবিধ শাস্ত্র বিচার ও বিশ্লেষণে অতুলনীয় পণ্ডিত ছিলেন। তাঁরা প্রকৃত সনাতন ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেছেন, সমগ্র মানবসমাজের কল্যাণ সাধন করেছেন এবং তিন জগতে সম্মানিত ও সকলের আশ্রয়স্থল হয়েছেন। তাঁরা সর্বদা শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের চরণকমলের ভজনে এমনভাবে মগ্ন ছিলেন যে ভক্তির আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে থাকতেন।
৩য় শ্লোকের অর্থ
আমি সেই ছয় গোস্বামীকে প্রণাম করি, যাঁরা শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর অসীম গুণকীর্তনে অত্যন্ত দক্ষ এবং গভীর শ্রদ্ধায় সমৃদ্ধ ছিলেন। তাঁরা গোবিন্দের নাম ও গুণকীর্তনের অমৃতধারার মাধ্যমে জীবদের পাপ ও দুঃখ দূর করতেন। তাঁরা ভক্তির আনন্দসমুদ্রকে ক্রমাগত বৃদ্ধি করতেন এবং জীবদের শুষ্ক মুক্তিবাদের পথ থেকে রক্ষা করতেন।
৪র্থ শ্লোকের অর্থ
আমি সেই ছয় গোস্বামীকে প্রণাম করি, যাঁরা রাজমন্ত্রী, ধনসম্পদ, সামাজিক সম্মান ও উচ্চপদকে তুচ্ছ জ্ঞান করে মুহূর্তের মধ্যে পরিত্যাগ করেছিলেন। জীবের প্রতি অপরিসীম করুণাবশত তাঁরা অতি সাধারণ কৌপীন ও ছেঁড়া কাঁথা ধারণ করে জীবনযাপন করতেন। তাঁরা সর্বদা গোপীভাবরূপ প্রেমরসসমুদ্রের উচ্ছ্বসিত তরঙ্গে নিমজ্জিত থাকতেন।
৫ম শ্লোকের অর্থ
আমি সেই ছয় গোস্বামীকে প্রণাম করি, যাঁরা কোকিল, হংস, সারস ও ময়ূরে শোভিত, নানাবিধ বৃক্ষলতা ও সৌন্দর্যে অলঙ্কৃত শ্রীবৃন্দাবনধামে বাস করতেন। তাঁরা দিনরাত শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের ভজন করতেন এবং সমগ্র জীবসমাজকে প্রকৃত কল্যাণের পথ প্রদর্শন করতেন।
৬ষ্ঠ শ্লোকের অর্থ
আমি সেই ছয় গোস্বামীকে প্রণাম করি, যাঁরা নির্দিষ্ট সংখ্যায় প্রতিদিন হরিনাম জপ ও দণ্ডবৎ প্রণাম করতেন। তাঁরা নিদ্রা, আহার ও ভোগবিলাসকে জয় করেছিলেন এবং অত্যন্ত বিনয়ী ছিলেন। রাধাকৃষ্ণের গুণ, লীলা ও মাধুর্যের স্মরণে তাঁরা সর্বদা প্রেমানন্দে বিভোর থাকতেন।
৭ম শ্লোকের অর্থ
আমি সেই ছয় গোস্বামীকে প্রণাম করি, যাঁরা রাধাকুণ্ডের তীরে, যমুনার কূলে এবং বংশীবটের নিকটে প্রেমোন্মাদ অবস্থায় সর্বদা অবস্থান করতেন। কৃষ্ণবিরহে তাঁরা গভীরভাবে ব্যাকুল হতেন এবং ভাবাবেশে শ্রীহরির গুণকীর্তন করতেন।
৮ম শ্লোকের অর্থ
আমি সেই ছয় গোস্বামীকে প্রণাম করি, যাঁরা বিরহ-বেদনায় ব্যাকুল হয়ে ব্রজমণ্ডলের সর্বত্র খুঁজে বেড়াতেন এবং উচ্চস্বরে ডাকতেন— “হে রাধে! হে ব্রজদেবী! হে ললিতে! হে নন্দনন্দন শ্রীকৃষ্ণ! তোমরা কোথায়? তোমরা কি গোবর্ধনের কল্পবৃক্ষতলে আছ? নাকি যমুনাতীরের বনে আছ?” এইভাবে তাঁরা দিব্য প্রেমাবেশে সর্বত্র শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের অনুসন্ধান করতেন।