20/04/2026
দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসাবে ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসাবে নাম লেখালো বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে মুলত বঙ্গোপসাগরের গার্ডিয়ান যে বাংলাদেশ এইটার স্বীকৃতি দিলো ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আমার এই সরকারের সবচেয়ে আন্ডারেটেড মন্ত্রণালয় মনে হয়। এরা সবচাইতে বেশি কাজ করতেছে এবং কাজের কাজ করতেছে। কিন্তু প্রেসটিম যেহেতু অথর্ব তাই জিনিসগুলা সামনে আসতেছে না।
ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন বাংলাদেশের সাথে Partnership and Cooperation Agreement (PCA) চুক্তি করেছে তাও আবার দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসাবে। এই চুক্তির গুরুত্ব অনেক অনেক বেশি।
এখন থেকে ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন বাংলাদেশকে আর কোনো সাহায্যগ্রহীতা হিসেবে নয়, বরং একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দিলো।
আমরা সবাই জানি ২০২৬ সালে বাংলাদেশ LDC বা স্বল্পন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে যাবে। যারফলে ইউরোপের শুল্কমুক্ত বাজারের সুবিধা হারাবে বাংলাদেশ।
অর্থনীতির অবস্থা এমনেই ভালো না। এইরকম ভয়ংকর সিচুয়েশনে যদি বাংলাদেশ ইউরোপের শুল্ক সুবিধা হারায় তাইলে চরমভাবে বেকায়দায় পড়তে হবে।
এই PCA চুক্তির মাধ্যমে মুলত শুল্ক সুবিধা ( GSP+) পাওয়ার পথ খুলে গেলো বাংলাদেশের। এখন LDC থেকে বের হয়ে গেলেও কিছু ক্রাইটেরিয়া পুরণ করে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে বাংলাদেশ।
GSP+ সুবিধার আওতায় বছরে প্রায় ২.৫ - ৩ বিলিয়ন ডলারের লাভ করবে বাংলাদেশ। এই পরিমাণটা বিশাল।
এছাড়া ১০-১২% ট্যারিফ মাফ করে দেবে ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন। ইউরোপে বাংলাদেশের ২৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কেট অক্ষত থাকবে।
এছাড়া PCA যেহেতু একটু কৌশলগত চুক্তি, তাই বাংলাদেশ এখন ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় অংশীদার দক্ষিণ এশিয়ায়। এর মাধ্যমে সামরিক সহযোগীতা বৃদ্ধির দুয়ার খুলে গেলো বাংলাদেশের জন্য।
ইউরোফাইটার টাইফুন ফাইটার জেট কিংবা জার্মানির সুপার স্টেলথ সাবমেরিন এখন বিমানবাহিনী আর নৌবাহিনীর সাথে যুক্ত হওয়া সময়ের দাবি।
তবে সবচেয়ে পাওয়ারফুল কাজটা হইছে গ্রিন এনার্জি ডেভেলপমেন্ট সেক্টরে। ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের গ্লোবাল গেটওয়ের ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল থেকে সরাসরি ফান্ড কালেক্ট করতে পারবে বাংলাদেশ।
কিছুদিন আগেই সরকার সোলার প্যানেলে বিশাল বিনিয়োগের কথা বলেছে। যার ম্যাক্সিমাম অর্থ আনা সম্ভব এই ফান্ড থেকে। বাংলাদেশেই যদি ম্যাসিভ আকারে সোলার প্যানেল তৈরীর কারখানা তৈরী করা যায় এবং বড় আকারের সৌর বিদ্যুৎ প্রডাকশনে যাওয়া যায় তাহলে তেল গ্যাসের ওপর থেকে চাপ কমে যাবে।
এনার্জি সভ্রেনিটির দিকে আগাবে বাংলাদেশ। যেকোনো যুদ্ধ বিগ্রহে বাংলাদেশের বিদ্যুৎখাত ইমিউন থাকবে, এখনকার মত লোডশেডিং সংকট আর হবে না।
বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে (SEZ) এবং হাই-টেক পার্কগুলোতে যদি ইউরোপের বড় কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ করা শুরু করে, তবে তা অনায়াসেই বছরে ১-২ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) নিয়ে আসতে পারে।
এই বিশাল কৌশলগত চুক্তির অর্থনৈতিক মুল্য আগামী ১০ বছরের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
Hats off Ministry of Foreign Affairs, Bangladesh and European Union in Bangladesh 👌🏻