18/09/2026
রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর ওফাতের পর তাঁকে হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর কামরাতেই দাফন করা হয়, কারণ নবীদের যেখানে মৃত্যু হয় সেখানেই দাফন করার বিধান রয়েছে। এরপর যখন প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রাঃ) ইন্তেকাল করেন, তখন মৃত্যুর আগে তিনি হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর কাছে বিনম্র আরজি জানান—যেন তাঁকে তাঁর প্রিয় বন্ধু রাসূল (সাঃ)-এর পাশে দাফন করার অনুমতি দেওয়া হয়। আয়েশা (রাঃ) সানন্দে সেই অনুমতি দেন।
কয়েক বছর পর, দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রাঃ) যখন ঘাতকের হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হয়ে মৃত্যুশয্যায়, তখন তাঁর মনেও একটিই ব্যাকুল ইচ্ছা জেগে ওঠে—রাসূল (সাঃ) ও তাঁর প্রিয় সাথী আবু বকর (রাঃ)-এর পাশে একটু স্থান পাওয়া। কিন্তু তিনি জানতেন, সেই ঘরে আর মাত্র একজনের দাফনের স্থান অবশিষ্ট ছিল এবং সেটি ছিল গৃহকর্ত্রী হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর নিজের জন্য নির্ধারিত।
হযরত ওমর (রাঃ) অত্যন্ত দ্বিধা ও বিনীত হৃদয়ে তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ)-কে পাঠালেন হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর কাছে। তিনি বলে দিলেন, "তুমি গিয়ে আয়েশাকে বোলো, ওমরের পক্ষ থেকে সালাম। তবে 'আমীরুল মুমিনীন' বোলো না, কারণ আজ আমি কেবলই এক সাধারণ ওমর। তাঁকে বোলো, ওমর তার দুই সঙ্গীর পাশে দাফন হওয়ার সামান্য স্থান ভিক্ষা চায়।"
আবদুল্লাহ (রাঃ) যখন আয়েশা (রাঃ)-এর কাছে গিয়ে এই বার্তা পৌঁছালেন, তখন আয়েশা (রাঃ) কেঁদে ফেললেন। তিনি বললেন, "আমি এই জায়গাটি নিজের দাফনের জন্য রেখেছিলাম। কিন্তু আজ আমি ওমরের প্রয়োজনকে আমার নিজের ইচ্ছার চেয়ে অগ্রাধিকার দিলাম।"
সংবাদ শুনে হযরত ওমর (রাঃ) আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করলেন। তবে তাঁর বিনয় ও তাকওয়া এতটাই গভীর ছিল যে, তিনি পুত্রকে পুনরায় ওসিয়ত করলেন, "আমার ইন্তেকালের পর আমার লাশ জানাজার জন্য নিয়ে যাবে এবং দরজায় দাঁড়িয়ে পুনরায় অনুমতি চাইবে। যদি আয়েশা সানন্দে অনুমতি দেন, তবেই আমাকে ভেতরে দাফন করবে। আর যদি তিনি ইতস্তত করেন, তবে আমাকে সাধারণ মুসলিমদের গোরস্থানে দাফন করবে।"
ইন্তেকালের পর ঠিক তা-ই করা হলো। পরম ভালোবাসায় আয়েশা (রাঃ) চিরদিনের জন্য বিশ্বনবী (সাঃ) ও আবু বকর (রাঃ)-এর পাশে ওমর (রাঃ)-কে শায়িত হওয়ার অনুমতি দিলেন।