28/06/2026
৫ বছর জেল হতে পারে! ৫০ লক্ষ রিয়াল জরিমানা! সৌদি আরবের নতুন বাস্তবতা
সৌদি আরবে প্রবাসীদের মধ্যে একটা চুপচাপ চলতে থাকা বাস্তবতা আছে। অন্যের নামে ব্যবসা। কারও দোকান, কারও রেস্টুরেন্ট, কারও কন্ট্রাক্টিং অফিস, কাগজে-কলমে যার মালিক একজন সৌদি কফিল, কিন্তু আসল পরিশ্রম, পুঁজি আর ঘুম-হারানো রাতগুলো একজন বিদেশির।
শুরুটা সবসময় সহজ মনে হয়। লাইসেন্সের ঝামেলা নেই, দ্রুত ব্যবসা শুরু। কিন্তু এই সহজ পথটার একটা নাম আছে তাসাত্তুর (Commercial Concealment)। আর সৌদি আইনে এটা কোনো ছোটখাটো ভুল নয়, এটা একটা ফৌজদারি অপরাধ।
অনেকেই জানেন না, এই আইন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর হয়েছে।
আগের আইনে শাস্তি ছিল সর্বোচ্চ ২ বছর জেল আর ১০ লক্ষ রিয়াল জরিমানা। নতুন আইনে সেটা বাড়িয়ে করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত জেল এবং ৫০ লক্ষ রিয়াল (SAR 5 million) পর্যন্ত জরিমানা। অর্থাৎ শাস্তির মাত্রা প্রায় আড়াই গুণ বেড়েছে।
কিন্তু গল্পটা শুধু জেল আর জরিমানায় শেষ হয় না। আইনে এর সাথে আরও কিছু আনুষঙ্গিক শাস্তি জুড়ে দেওয়া হয়েছে, যেগুলো অনেক সময় জরিমানার চেয়েও ভারী হয়ে ওঠে,
প্রথমত, প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়, কার্যক্রম পুরোপুরি গুটিয়ে ফেলা হয় এবং কমার্শিয়াল রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়। বছরের পর বছর গড়ে তোলা ব্যবসা এক কলমের খোঁচায় মুছে যায়।
দ্বিতীয়ত, অবৈধভাবে অর্জিত সব টাকা-পয়সা জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করা হয়। শুধু জরিমানা নয়, ব্যবসা থেকে আসা মুনাফাও বেহাত হয়।
তৃতীয়ত, যাকাত, ফি ও ট্যাক্স পেছনের তারিখ থেকে আদায় করা হয়। অর্থাৎ এতদিনের না-দেওয়া সরকারি পাওনা একসাথে চেপে বসে।
চতুর্থত, আর এটাই প্রবাসীর জন্য সবচেয়ে কঠিন, বিদেশিকে দেশ থেকে বহিষ্কার (ডিপোর্ট) করা হয় এবং তাকে সৌদিতে কাজের ভিসায় আর কখনো ফিরতে দেওয়া হয় না। একটা ভুলের জন্য সৌদির দরজা চিরতরে বন্ধ।
আর সবশেষে, দোষীর নাম-পরিচয় স্থানীয় মিডিয়ায় প্রকাশ করা হয় (মানহানি), সেটাও আবার দোষীর নিজের খরচে। আর্থিক ক্ষতির ওপর সামাজিক সম্মানহানি।
এগুলো কেবল লেখা নিয়ম নয়, বাস্তবেও প্রয়োগ হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে মদিনার ফৌজদারি আদালতে স্বর্ণ ও জুয়েলারি খাতে ৪ জন ইয়েমেনি ও ১ জন সৌদিকে একসাথে মোট ১৪ বছর জেল, জরিমানা এবং ৬০ লক্ষ রিয়ালেরও বেশি অর্থ বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। একটা ব্যবসা, কয়েকজন মানুষ, আর কয়েক বছরের ভেতরে সবকিছু শেষ।
সবচেয়ে বিপজ্জনক দিকটা, হুইসেলব্লোয়ার পুরস্কার
একটা জিনিস অনেকেই জানেন না। যে ব্যক্তি তাসাত্তুরের তথ্য দিয়ে রিপোর্ট করে, সে নাগরিক হোক বা প্রবাসী, তাকে মোট জরিমানার ৩০% পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হয়।
এর মানেটা একটু থেমে ভাবুন। আপনার প্রতিযোগী, আপনার সাবেক কর্মচারী, এমনকি আপনার পরিচিত কেউ, যে আপনার ব্যবসার ভেতরের খবর জানে, তার কাছে আপনাকে রিপোর্ট করার একটা আর্থিক কারণ আছে। আর মন্ত্রণালয় এখন AI-ভিত্তিক মনিটরিং ব্যবহার করছে, টাকার লেনদেন বিশ্লেষণ করে সন্দেহজনক ব্যবসা শনাক্ত করছে। লুকিয়ে থাকার জায়গাটা দিন দিন ছোট হয়ে আসছে।
ভয় পাওয়ার জন্য এই লেখা নয়। সচেতন করার জন্য।
কারণ এই খাদের পাশ দিয়েই একটা পরিষ্কার, বৈধ পথ আছে। নিজের নামে MISA লাইসেন্স নিয়ে শতভাগ নিজের কোম্পানি, কফিল ছাড়া। যে ব্যবসাটা আপনি বছরের পর বছর গড়ে তুলেছেন, সেটা সত্যিকার অর্থেই আপনার করে নেওয়ার পথ আছে, কাগজে, কলমে, বাস্তবে।
সহজ পথ আর নিরাপদ পথ সবসময় এক নয়। কিন্তু নিরাপদ পথটাও পাওয়া যায়, যদি সঠিক জায়গা থেকে শুরু করেন।
যারা কফিল-নির্ভর ব্যবসা থেকে বের হয়ে নিজের নামে বৈধভাবে সৌদি আরবে ব্যবসা শুরু করতে চান, তারা কমেন্টবক্সে দেওয়া ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারেন। Emon Travel and Tourism এর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (FREE) প্রাথমিক কনসাল্টেন্সি প্রদান করা হবে।
Riyadh-Prince Bandar Bin Abdulaziz st. Rowadah