09/04/2020
বাঙ্গালীর ব্রাজিল অভিযান-১
প্রিয় বন্ধুরা, যে যেখানেই আছিস আশা করছি সবাই নিরাপদে আছিস। হোম কোয়ারেন্টিনের এই অবসর সময়টায় ভাবলাম কাজের ফাঁকে মাঝে সাঝে একটি করে ভ্রমন ব্লগ লিখলে মন্দ হয়না।
২০১৬ জুলাই মাসের ২৮ তারিখ রওনা দিলাম আমার বর্তমান নীড় সিঙ্গাপুরের চাঙ্গী এয়ারপোর্ট থেকে ব্রাজিল রিও ডি জেনিওরো এর উদ্দ্যেশে। বোর্ডিং কার্ড গুলো হাতে পাবার পর তো আমার চোখ ছানাবাড়া, সকল এক্সাইটমেন্ট উধাও হয়ে গেল ৩৩ ঘন্টার জার্নি শিডিউল দেখে।
রুট ম্যাপঃ
📷📷📷 সিঙ্গাপুর কাতার সাও পাওলো, ব্রাজিল রিও ডি জেনিওরো (গন্থব্য)
📷
দিন-০১
রওয়ানা দিলাম ২৮ তারিখ আর ব্রাজিল পৌছালাম তখন ৩০ ই জুলাই। অলেম্পিক গেমস শুরু হতে বাকি তখনো ৫ দিন। আমাদেরকে অলেম্পিক কমিটি ৫-৭ দিন আগেই আমন্ত্রন জানিয়েছে গেমস ইভেন্ট প্রস্তুত করার জন্য।
তখন রিও তে উইন্টার চলছে, গুগল এ দেখে নিলাম উইন্টার এ কেমন তাপমাত্রা কেমন থাকে সেই অনুযায়ী একটি জ্যাকেট নিয়ে নিলাম সিঙ্গাপুরের মোস্তফা সেন্টার থেকে।
রিও এর জোবিম এয়ারপোর্টেই পরিচয় হল ৪ জন ছেলে মেয়ের সঙ্গে যারা আমার ফ্লাইটেই সাও পাওলো থেকে রিও তে এসেছে। যার একজন সিঙ্গাপুর থেকে এসেছে ভলান্টিয়ার হিসেবে যোগদানের জন্য (ছবিতে ডান থেকে তিন), আরকজন ডাক্তার যে আর্জেন্টিনার নাগরিক কিন্তু কর্মস্থল ব্রাজিল এ আর সবশেষের ফিনিস লেডি। এয়ারপোর্ট থেকে আনুষ্ঠানিকতা সেরে ট্যাক্সি যোগে সরাসরি চলে গেলাম অলেম্পক ভিলেজে যেখানে আমি সহ সারা দুনিয়ার খন্ডকালীন ইন্জিনিয়ার, নিউজ কাস্টার, আটিস্ট দের থাকার ব্যাবস্থা করা হয়েছে। ঘড়ির কার্টায় ঠিক রাত ১০ টা বাজে তখন, এয়ারপোর্ট থেকে সঙ্গে আনা কেক আর জুস খেয়েই শুয়ে পরলাম। পরদিন সকাল ৭ টায় নাস্তা সেরে আমার ভেনুতে যেতে হবে।
📷
ছবি: বাম থেকে আমি, আর্জেন্টাইন ডাক্তার, সিঙ্গাপুরী ভলান্টিয়ার ও ফিনিস তরুণী
দিন-২:
সকাল ৭.১৫ তে ঘুম থেকে উঠে ম্যাপ দেখে ক্যাফেটেরিয়া খুজতে থাকলাম। আমার কম্পাউন্ড টি অনেক বড়, রাতে আসার পথে দেখলাম সারি সারি ৬ তলা বাড়ি। গোসল শেষে জামা কাপড় পড়ে নিচে নামলাম। গেটে অভ্যার্থনা করল এক ব্রাজিলিয়ান রমনী। ভাঙ্গা ইংরেজীতে আমাকে অবিভাধন জানাল আমাকে আর আমি তাকে অবাক করে দিয়ে বললাম পর্তূগীজ অবিভাদন (BOM DIA) শুভ সকাল, তারপর তাকে ক্যাফে এর কথা জিজ্ঞেস করতে হাত দিয়ে দেখিয়ে দিল কোন দিকে যাব।
ক্যাফে তে গিয়ে পরিচয় হল রাশিয়ান সুদর্শন তরুন গ্লেব ইরিন কাকতালীয় ভাবে সে আমার TOC এর টিম মেট। দুজন মিলে এক সঙ্গে নাস্তা সেরে একটা ফটো তুলে রাখলাম তোমাদের দেখানোর জন্য।
📷
ছবি: আমি ও গ্লেব ইরিন
নাস্তা সেরে আমি আর গ্লেব অলেম্পিক এর বাসে করে রওয়ানা দিলাম আমাদের ডিওডোরো স্টেডিয়াম এর উদ্দেশ্যে। প্রায় ৪০ মিনিট পাহাড়ী আকা বাকা রাস্তায় করে আমাদের কম্পাউন্ড এ পৌছালাম। পরিচয় হল গ্লেব ছাড়া আরও বাকি ২ জন মেম্বার এর সাথে যার একজন কানাডিয়ান উনার নাম পিটার, পড়ে আমরা নাম দিয়েছিলাম পিটার দি গ্রেট আর আরেকজন উনার নাম ও পিটার। উনি জার্মানীর বার্লীন থেকে, তাই তার নাম দিয়েছিলাম পিটার দি জার্মান যাতে করে আমাদের কনফিউশন তৈরী না হয় তাদের দুজন কে নিয়ে। চার জন মিলে আমাদের অপারেশনস সেন্টার এ সঙ্গে থাকা পতাকা গুলো উড়িয়ে দিলাম। বাংলাদেশ, জার্মানী, রাশিয়া এবং কানাডা।
📷
ছবি: বাম থেকে পিটার জার্মান, জনি, গ্লেব, পিটার দি গ্রেট
সাধারনত ক্যাবলিং কানেক্টিভিটি অলেম্পিক গেমস শুরু হওয়ার ২০-২২ মাস পূর্বেই ইন্সটল করা হয়ে থাকে। মুলত ভেন্যু এর সঙ্গে আমাদের (TOC) টেকনিক্যাল অপারেশনস সেন্টার এর কানেক্টিভিটি এস্টাব্লিসমেন্ট এবং (IBC) ইন্টারন্যাশনাল ব্রডকাস্টিং সেন্টার এর কানেক্টিভিটি এই ৬-৭ দিন আমরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করব। আমার দায়িত্ব এই TOC রুমেই আগামী ২১ দিন মনিটিরং করা এই স্টেডিয়াম এর যে সকল ফিড বিলিয়ন মানুষের কাছে যাচ্ছে তার কোয়ালিটি যাচাই করা এবং RHB কে ফিড দেয়া।
তোরা যদি চাস তবে চলবে……………………………………………………………………………………………………..