26/09/2026
কথাটা পড়েই প্রথম ধাক্কায় থমকে যেতে হয়, তাই না?
আজ আপনাদের সাথে এমন একটি ঘটনা শেয়ার করতে চাই, যা প্রথমবার শোনার পর আমাদের মতো আপনাদেরও হৃদয়ে গভীরভাবে রেখাপাত করবে, ইনশাআল্লাহ।
আমাদের জীবনের ব্যস্ততায় আমরা কত কী নিয়ে ভাবি! কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, পূর্বসূরিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর সৌন্দর্য ঠিক কতটা উঁচুতে পৌঁছাতে পারে?
সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি, পরম শ্রদ্ধেয় শায়খ আবদুল আজিজ ইবন আবদুল্লাহ আলে শায়খ (রহ.)।
তিনি তার জীবনের পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন বছরে, টানা পাঁচবার মক্কার পবিত্র ভূমিতে দাঁড়িয়েছিলেন সম্পূর্ণ আলাদা একটি উদ্দেশ্যে।
তিনি পাঁচজন মহান ইমামের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে পাঁচটি বদলি হজ সম্পন্ন করেছিলেন!
যাঁদের নাম উচ্চারণ করার সময় আজ আমাদের বুক শ্রদ্ধায় ভরে ওঠে:
• ইমাম ইবন হাযম (রহ.)
• ইমাম ইবন আবদুল বার (রহ.)
• ইমাম আল-মুনযিরী (রহ.)
• ইমাম আন-নওয়াবী (রহ.)
• ইমাম ইবন রজব (রহ.)
একবার চিন্তা করুন তো...
আমরা অনেকেই হয়তো ভাবতে পারি, যে তাঁরা কি জীবনে কোনোদিন হজ করতে পারেননি বলে শায়খ এই দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন?
না, ইতিহাস আমাদের ভিন্ন কথা বলে।
ইমাম আল-মুনযিরী, ইমাম আন-নওয়াবী কিংবা ইমাম ইবন রজব (রহ.)—তাঁরা প্রত্যেকেই জীবনে নিজ দায়িত্বে হজ সম্পন্ন করেছিলেন।
অন্যদিকে স্পেন (আন্দালুস) দূরবর্তী অবস্থান ও তৎকালীন কঠিন সফরের কারণে ইমাম ইবন হাযম (রহ.) ও ইবন আবদুল বার (রহ.)-এর জীবনে সেই সুযোগ মেলেনি।
তাহলে একজন আলেম কেন তাঁদের প্রত্যেকের জন্য আলাদাভাবে পাঁচটি বছর উৎসর্গ করলেন?
কারণটা অভাব পূরণ করা ছিল না...
কারণটা ছিল ‘ইলমের প্রতি গভীর ভালোবাসা আর মহৎ এক কৃতজ্ঞতাবোধ!’
এই যুগে আমরা হাত বাড়ালেই যে হাদিসের কিতাব খুলে বসতে পারছি, মসজিদ, মাদরাসা, মারকায, খানকায় যে ফিকহ শিখছি, যে রিয়াদুস সালিহীন পড়ে নিজেদের জীবন সাজাচ্ছি—এই মানুষগুলো শত শত বছর আগে তাঁদের সারাটা জীবন, রক্ত ও ঘাম পানি করে সেই পথ আমাদের জন্য মসৃণ করে দিয়ে গেছেন।
তাঁরা দুনিয়া ছেড়ে গেছেন শত শত বছর আগে। কিন্তু তাঁদের রেখে যাওয়া আলোর প্রদীপ আজও আমাদের পথ দেখাচ্ছে।
গ্র্যান্ড মুফতি সাহেব এটিই অনুভব করেছিলেন। তিনি বুঝেছিলেন, এই ঋণের কোনো জাগতিক বিনিময় হয় না।
তাই পরবর্তী প্রজন্মের একজন অনুসারী হিসেবে, উস্তাদদের প্রতি চিরন্তন ভালোবাসা থেকে তিনি নিজের জীবনের পাঁচটি বছরের হজের আমল এই পাঁচজন মহান আলোকের নামে উৎসর্গ করে দিয়ে গেছেন।
কী অবিশ্বাস্য এক আমানতদারিতা, তাই না?
প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
এই অসাধারণ ঘটনাটি কিন্তু আমাদের জন্য এক দারুন শিক্ষার...
একজন আলেমের রেখে যাওয়া সততা ও ইলম কত শত বছর ধরে দুনিয়ায় জীবিত থাকে—এ ঘটনা তার সাক্ষী হিসাবে যথেষ্ট।
আর তারচেয়েও বড় কথা, যাঁরা আমাদের দ্বীন শিখিয়েছেন, দ্বীনের পথে চলতে সাহায্য করেছেন, তাঁদের জন্য আমাদের হৃদয়ে কতটুকু ভালোবাসা সঞ্চিত আছে?
আজ রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আসুন আমরা একটু চোখ বন্ধ করি।
আমাদের জীবনের যেসব উস্তাদ, যেসব শিক্ষক বা আলেম আমাদের আলোর পথ দেখিয়েছেন, তাঁদের জন্য কি অন্তরের গভীর থেকে একটা আন্তরিক দোয়া আমরা পাঠাতে পারি না?
আল্লাহ তাআলা এই সকল মহান ইমামদের এবং আমাদের উস্তাদদের জান্নাতুল ফেরদাউসের উচ্চ মাকাম দান করুন, আমিন 🤲