17/02/2026
বাংলাদেশের নতুন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।
একজন পর্যটনকর্মী, উদ্যোক্তা এবং একজন দেশপ্রেমিক বাংলাদেশি হিসেবে আমার হৃদয়ের গভীর থেকে একটি প্রত্যাশা— এই দেশের পর্যটন খাত যেন অবশেষে তার প্রাপ্য গুরুত্ব পায়।
বিশ্বের বহু দেশে পর্যটন জিডিপির অন্যতম বড় চালিকা শক্তি। কিন্তু আমাদের দেশে— অসীম সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও— পর্যটন খাতটি বহু বছর ধরে অবহেলিত, অগ্রাধিকারহীন এবং পরিকল্পনাহীন অবস্থায় পড়ে আছে। নির্বাচনী মেনিফেস্টোতেও পর্যটনকে কখনোই বড় প্রতিশ্রুতির জায়গায় দেখা যায়নি— যা একজন পর্যটনকর্মী হিসেবে আমাকে সবসময়ই কষ্ট দিয়েছে।
২০২৪ সালের আন্তর্জাতিক সূচকগুলো দেখায়—
বাংলাদেশ পর্যটন উন্নয়ন সূচকে ১১৯ দেশের মধ্যে ১০৯তম অবস্থানে।
এশিয়া–প্যাসিফিক অঞ্চলের মধ্যে সর্বশেষ।
এই অবস্থান আমাদের সম্ভাবনার প্রতিফলন নয়—
বরং আমাদের দীর্ঘদিনের অবহেলার প্রতিচ্ছবি।
কিন্তু আমি বিশ্বাস করি—
বাংলাদেশের পর্যটন খাত ‘অব্যবহৃত সোনার খনি’।
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, নদী, মসজিদ, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, অসংখ্য সংস্কৃতি, অসংখ্য গল্প—
সবই আছে আমাদের।
যা নেই—
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, দক্ষ জনশক্তি, নিরাপদ ভ্রমণ পরিবেশ, এবং পর্যটনকে জাতীয় অগ্রাধিকার খাত হিসেবে দেখার রাজনৈতিক সদিচ্ছা।
আমি ব্যক্তিগতভাবে আশা করি—
নতুন মন্ত্রীর নেতৃত্বে এই খাতটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি পাবে।
পর্যটন‑বান্ধব নীতি, উদ্যোক্তাদের পৃষ্ঠপোষকতা,
আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো, দক্ষ মানবসম্পদ,
এবং নিরাপদ ভ্রমণ পরিবেশ— এসবই বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি শক্তিশালী পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করতে পারে।
পর্যটন শুধু অর্থনীতি নয়—
এটা দেশের পরিচয়, সংস্কৃতি, ইতিহাস, মানবিকতা এবং সম্ভাবনার বহিঃপ্রকাশ।
পর্যটন বিকাশ মানে—
দেশকে বিশ্বের সামনে নতুনভাবে তুলে ধরা।
পর্যটন বিকাশ মানে—
হাজারো তরুণের কর্মসংস্থান।
পর্যটন বিকাশ মানে—
একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
আমি আশাবাদী—
নতুন নেতৃত্ব এই সেক্টরকে শুধু একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হিসেবে নয়, বরং একটি জাতীয় সম্ভাবনার প্রকল্প হিসেবে দেখবে। বাংলাদেশের পর্যটন খাত যেন অবশেষে তার প্রাপ্য সম্মান পায়— এটাই একজন পর্যটনকর্মী হিসেবে আমার আন্তরিক প্রত্যাশা।
- মো আলামগীর হোসেন
এডমিন