12/08/2026
🕋 ওমরাহ করতে গিয়ে আমরা আসলে কী নিয়ে ফিরছি?
একটা সময় ওমরাহ মানেই ছিল—
চোখে পানি, মুখে দোয়া, হৃদয়ে ভয়, আর আল্লাহর কাছে ফিরে আসার আকুতি।
আর এখন?
কাবা দেখার আগেই ক্যামেরা অন! 📱
তাওয়াফের মাঝেও ছবি!
সাঈ করতে করতে ভিডিও!
মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদে নববী ﷺ—
যেদিকেই তাকান, কোথাও না কোথাও ক্যামেরা তাক করা!
মনে হয়, আল্লাহর ঘরে এসেছি ইবাদত করতে, নাকি নিজের উপস্থিতির প্রমাণ দিতে?
একটু কঠিন কথা বলি—
যে সফরে গুনাহ মাফ করাতে যাওয়ার কথা,
সেই সফরেই যদি লোক দেখানো, অহংকার আর প্রদর্শনীর নতুন গুনাহ যোগ হয়—তাহলে লাভটা কোথায়?
পিকনিকে গিয়েও মানুষ এত ছবি তোলে না,
যতটা কেউ কেউ কাবার সামনে দাঁড়িয়ে তোলে!
কাবা শরিফ কি আমাদের ফটোশুটের জায়গা?
রওজা মোবারক কি সোশ্যাল মিডিয়ার কনটেন্ট?
প্রতিটি মুহূর্ত কি মানুষের দেখানোর জন্য সংরক্ষণ করতেই হবে?
একবার ভাবুন…
আপনি যে কাবার সামনে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলছেন,
হয়তো আপনার পাশের মানুষটি বছরের পর বছর অপেক্ষা করে,
চোখের পানি ফেলে সেই ঘরের দিকে তাকানোর সুযোগ পেয়েছে।
আপনি যে মুহূর্তটি ক্যামেরায় বন্দী করতে ব্যস্ত,
সেই মুহূর্তেই হয়তো আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় একটি দোয়া কবুল হওয়ার অপেক্ষায় আছে!
📱 ফোনটা একটু নামিয়ে রাখুন।
🤲 হাত দুটো দোয়ার জন্য তুলুন।
👀 চোখটা কাবার দিকে রাখুন।
❤️ মনটা আল্লাহর দিকে ফেরান।
কারণ—
কাবার ছবি আপনার মোবাইলে থাকলেই আপনার হৃদয়ে কাবার ভালোবাসা থাকবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
আর মনে রাখবেন,
ওমরাহ কোনো পর্যটন নয়।
এটি আত্মশুদ্ধির সফর।
এটি ফিরে আসার সফর।
এটি আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণের সফর।
আজ ওমরাহ অনেকের নাগালের মধ্যে এসেছে—
আলহামদুলিল্লাহ।
কিন্তু ওমরাহ করার সুযোগ পাওয়া যতটা বড় নিয়ামত,
ওমরাহর আদব রক্ষা করা তার চেয়েও বড় দায়িত্ব।
তাই পরেরবার কাবার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে প্রশ্ন করুন—
“এই মুহূর্তটা কি আমি মানুষের জন্য রেখে যাব,
নাকি আল্লাহর জন্য?”
সেলফি কম হোক,
সিজদা বেশি হোক।
ভিডিও কম হোক,
দোয়া বেশি হোক।
পোস্ট কম হোক,
কান্না বেশি হোক।
কারণ মানুষকে দেখানোর জন্য নয়—
আমরা এসেছি সেই রবের কাছে, যিনি আমাদের দেখছেন। 🤍🕋
আল্লাহ আমাদের ওমরাহ কবুল করুন, রিয়া থেকে হেফাজত করুন এবং তাঁর ঘরের ইহতেরাম ও পবিত্রতা রক্ষা করার তাওফিক দান করুন।
আমিন। 🤲
মুফতি মোশাররফ হোসাইন।
প্রিন্সিপাল
শামসুল কুরআন মাদ্রাসা,
গোয়ালচামট,ফরিদপুর।